দূর্গাপুর(রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলায় সড়ক সংস্কারের মাত্র পাঁচ দিন যেতে না যেতেই নতুন বিছানো কার্পেটিং উঠে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধুলামিশ্রিত নিম্নমানের পাথর ও কম ও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার দেলোয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিয়ারকুড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪.২০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয় ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯৬ টাকা। কাজটি সম্পাদন করছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স।
স্থানীয় আবুল কাশেম সাংবাদিকদের সামনে হাত দিয়ে সড়কের পিচ তুলে দেখিয়ে অভিযোগ করেন, “রাস্তা সংস্কারের নামে শুধু টাকা লুটপাট হচ্ছে। মাত্র পাঁচ দিন না যেতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসী আবারও দুর্ভোগে পড়েছে।”
অন্য স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কের একাধিক স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

পথচারি প্রফেসর ইয়াসিন আলী বলেন, “রাস্তা ঠিকমত পিচ দেওয়া হয়নি। এই রাস্তা এক বছরও টিকবে না। এক বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।”
ভ্যান চালক আবু বক্কর অভিযোগ করেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, আর ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়াররা নিজেদের স্বার্থে সব নষ্ট করছে। রাস্তা পরিষ্কার করার পর কোনো পিচ দেওয়া হয়নি। যার ফলে দুই দিনও হয়নি সব উঠে যাচ্ছে। এমন রাস্তা করার চেয়ে না করা ভালো।”
সড়কের পাশে এক প্রতিবেশি আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, “পা দিয়ে ধাক্কা দিলেই পাথর উঠে যায়। পিচ ঢালার সময় রোলার দিয়ে ঠিকমত দোলে দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারা ইচ্ছেমতো কাজ করে চলে গেছে।”
অন্য প্রতিবেশি মাসুদ রানা জানান, “ঠিকাদার খুব তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করে চলে গেছে। উপজেলা থেকে কেউও নজর রাখেনি। সাধারণ ভ্যান গাড়ি চলাচলের সময় চাকা ডুবে যাচ্ছে, পিচ উঠে যাচ্ছে। জীবনেও এমন রাস্তা দেখিনি।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক-ঈ -মোহাম্মদ বলেন, “রাস্তার অনিয়মের বিষয়টি ল্যাব টেস্টের পরে আপনাদেরকে জানাবো। তার আগে কিছুই জানাতে পারব না। ল্যাব টেস্টের পরে রাস্তা খারাপ প্রমাণিত হলে পুনরায় ঠিকাদারিকে নির্দেশ দিয়ে নতুন রাস্তা করে নেওয়া হবে।” তিনি আরো বলেন, বিটুমিন এর মান সম্পর্কে জানা আছে কিন্তু ইটের (কোয়ালিটি) অর্থাৎ মান সম্পর্কে আমার মনে নেই। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।