
স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহীঃ
রাজশাহীর দূর্গাপুরে সরকারি লিজকৃত পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। ৭ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) রাত ১ টার দিকে উপজেলা দেলুয়াবাড়ি ইউপির নারায়নপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দূর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়নপুরে সরকারি খাস পুকুর সাব লিজের মাধ্যমে চাষাবাদ করছিলেন থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিলহজ্ব মাহমুদ। গত ২০ জানুয়ারী, নারায়নপুর এলাকার ভুট্টু , বল্টু, মনতাজ আলী, রনি, আলম, সাজ্জাদ, আলমগীর, আলাল, মিলন সহ আরো অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জন ব্যক্তি।
আমার লীজ কৃত পুকুর দেখে আসার পথে নারায়ণপুর বাজারে আমাকে পথ রোধ করে বলে, আমাদের এলাকায় মাছ চাষ করতে হলে আমাদেরকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নইলে জোরপূবর্ক পুকুরে মাছ ধরে বিক্রি করে চাঁদার টাকা আদায় করবো।
আমি তাদের টাকা দিতে অস্বীকার করায় ৭ ফেব্রুয়ারী আমার লীজ কৃত পুকুরে রাত্রী অনুমান ১২ ঘটিকার সময় উল্লেখিত লোকজন জেলে ভাড়া করে আমার পুকুরের মাছ ধরেন। আমাকে নারাণয়নপুর এলাকার অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি, মোবাইল করে জানায় যে, আমার পুকুরে মাছ ধরছে । আমি তৎক্ষনাত মোটরসাইকেল যোগে পুকুর পাড়ে যাওয়ার পূর্বেই দেখি উল্লেখিত ব্যক্তিগণেরা নসিমন গাড়ীতে মাছ বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে।

আমি গাড়ী টি আটকিয়ে জাতীয় জরুরী নম্বর ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাই। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই তাহারা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মাছের গাড়িটি নিয়ে চলে যায়। যাহার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি আছে। তাহারা আনুমানিক দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার মাছ ধরছে।
ভুক্তভোগী দূর্গাপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিলহজ্ব মাহমুদ জানান, ওই এলাকার মুহিদুল ইসলাম নামের মৎস্য চাষি সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত কর পরিশোধ করে পুকুরটি ৩ বছরের লিজ গ্রহণ করেছে। তার নিকট থেকে আমাকে সাব লিজ দিলে মৎস্য চাষাবাদ করে আসছি। দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের প্রকাশ্য মদদে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা আমার নিকট চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমি দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করার কারণে আজ তাহারা পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে দিয়েছেন।
দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার জানান,আওয়ামী লীগের অনুসারী মুহিদুল ইসলাম পুকুরটি চাষাবাদ করছিলেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পড়ে তিনি পুকুরের সকল মাছ ধরে নিয়েছেন। পুকুর টি পতিত পড়ে থাকায় এলাকার বাসিন্দা মাছ ছেড়ে চাষাবাদ করেছেন। আমি মসজিদ মাদ্রাসার নামে আবেদন করেছিলাম পুকুরটি আমাদের দেওয়া হয়নি। কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি যারা মাছ চাষ করেছিলেন তাঁরাই মাছ ধরেছেন।
এবিষয়ে দূর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি খাস পুকুর থেকে মাছ ধরার ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ/এজাহার দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
জীবন আলী সবুজ (কোরবান)
বি,এস,এস;এম,এ;এল,এল,বি
রাজশাহী আইন মহাবিদ্যালয়।
প্রধান কার্যালয়
রাজপাড়া, রাজশাহী কোর্ট।
বিজ্ঞাপন শাখা- দূর্গাপুর, রাজশাহী।
মোবাইলঃ ০১৭৫৯০১২৩৫৯,০১৭১৬৯০২৫৩৯
https://dainikcrimenews24.com/